সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০৩:৩০ অপরাহ্ন

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করলেন চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করলেন চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পদত্যাগ করেছেন ৪ টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী। এরা হলেন: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান এবং প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তারা প্রধানমন্ত্রী বরাবর পদত্যাগপত্র মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠান।

চলতি বছর জানুয়ারিতে মন্ত্রিসভায় সর্বশেষ রদবদলের পর এতদিন ৩০ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী এবং দুইজন উপমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। মন্ত্রিসভার সদস্যরা ছাড়াও মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্বে আছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। এছাড়া মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে আছেন আরও পাঁচজন। প্রসঙ্গত, সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রিসভায় সংসদের বাইরে থেকেও (টেকনোক্র্যাট) সদস্য নেয়া যায়। তবে এই সংখ্যাটি মোট মন্ত্রীদের ১০ ভাগের এক ভাগের বেশি হতে পারবে না।

এর আগে গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি শেষে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ওই চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর গণভবনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ তথ্য জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী টেকনোক্র্যাট মিনিস্টারদের পদত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যরা স্ব-পদে বহাল থাকবেন। তাদের পদত্যাগ করতে হবে না।

জানা গেছে, মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বর্তমান মন্ত্রিপরিষদই বহাল থেকে দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনের সময় এই মন্ত্রিপরিষদকে ছোট করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হচ্ছে না। শুধু যারা অনির্বাচিত বা টেকনোক্র্যাট শাখায় (জাতীয় সংসদ সদস্য নন) ছিলেন তাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকার বা নতুন করে মন্ত্রিপরিষদ ছোট করতে হবে এমন কিছু বলা নেই।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে দেওয়ার সময় হাইকোর্টের রায়ে বলা আছে, নির্বাচনের সময় তফসিল ঘোষণার পর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে অনির্বাচিত কেউ থাকতে পারবেন না। তাই আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে অনির্বাচিতরা থাকতে পারবেন না।

সূত্র জানায়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মন্ত্রীদের কোনো ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা না নেওয়া এবং কঠোরভাবে আইন মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর কোনো মন্ত্রী সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা নিতে পারবেন না। আপনাদের কঠোরভাবে এ আইন মেনে চলতে হবে। এ সময় চলমান সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবার সঙ্গেই তো আলোচনা করেছি। আলোচনা তো শেষ পর্যায়ে। ৭ নভেম্বরের পর আর কোনো আলোচনা হবে না।

জানা গেছে, চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীর পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদনের পর যাবে রাষ্ট্রপতির কাছে। পরে মন্ত্রিপরিষদ থেকে এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

আমরা প্রস্তুত: মন্ত্রিপরিষদ সচিব
এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় সরকার যে সিদ্ধান্ত দেবে, সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংকালে মন্ত্রীরা পদত্যাগ করলে পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে- সেই প্রশ্নে সচিব বলেন, ‘খুব বেশি সময় লাগে না। আমরা সামারি করে পাঠিয়ে দেব, মহামান্য (রাষ্ট্রপতি) হয়ে চলে আসবে।’ মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরো বলেন, ‘মন্ত্রিসভার আকার যাই হোক, বৈঠক নিয়মিতভাবেই হবে। কোনো বাইন্ডিংস নেই।’

দয়া করে সংবাদটি শেয়ার করুন

© ২০১8 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জন সংবাদ | কারিগরি সহযোগিতায় ক্লাইম্যাক্স আইটি নেট |
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি