সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০৩:০৩ অপরাহ্ন

ঋণে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি চাচ্ছে নির্মাতা কোম্পানি

ঋণে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি চাচ্ছে নির্মাতা কোম্পানি

পটুয়াখালীতে পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণ কাজের জন্য চীন থেকে নমনীয় ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই চীনের ‘বৈদেশিক প্রকল্প ঋণের’ আওতায় প্রকল্পটির অর্থায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে নির্মিতব্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রটির যৌথ মালিকানার কোম্পানি। এজন্য প্রস্তাবিত ঋণচুক্তির বিপরীতে সরকারের রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি চাচ্ছে বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি (বিসিপিসিএল)।

গত বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে ওই রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির নীতিগত সম্মতির জন্য চিঠি দিয়েছে বিসিপিসিএল। অর্থ বিভাগ থেকে এ সম্মতি গ্রহণ করবে বিদ্যুৎ বিভাগ।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালীতে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। দুই ইউনিটের কেন্দ্রটির প্রথমটি আগামী বছরের প্রথম ভাগে এবং অপর ইউনিটটি একই বছরের শেষ নাগাদ চালু হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কেন্দ্রটির প্রথম পর্যায়ের কাজ চলমান রয়েছে এবং এ পর্যায়ের আর্থিক হিসাব সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু এখন অপেক্ষমাণ।

তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্রটি বাংলাদেশের নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (এনডব্লিউপিজিসিএল) এবং চীনের সিএমসি (চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন) উদ্যোগে এবং সমান অংশীদারিত্বে নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে এবং কেন্দ্রটি পরিচালনায় দুই প্রতিষ্ঠানের সমমালিকানায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ-চীন পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল)। কেন্দ্রটির নির্মাণ ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে চীনের দুই কোম্পানি এনইপিসি এবং সিইসিসি নিয়ে গঠিত কনসোর্টিয়াম।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে প্রায় ১৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা (২২০ কোটি মার্কিন ডলার)। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ অর্থ ঋণ হিসেবে দিবে চীনের এক্সিম ব্যাংক। বাকি ২০ শতাংশের সমান জোগান দিবে এনডব্লিউপিজিসিএল এবং সিএমসি। কেন্দ্রটির প্রথম পর্যায়ের কাজের জন্য ইতিমধ্যে অনমনীয় ঋণ দিয়েছে এক্সিম ব্যাংক। দ্বিতীয় পর্যায়ের সহজ শর্তের নমনীয় ঋণ প্রাপ্তির জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু ইআরডি জানায়, আগামী ৫ বছরে চীনা অর্থায়নে বাস্তবায়িতব্য প্রকল্পের জন্য নমনীয় ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

বিদ্যুৎ বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, নমনীয় ঋণের সুদ কম এবং পরিশোধকালীন সময়ও বেশি পাওয়া যায়। অন্যান্য শর্তের বেড়াজালও কম। কিন্তু অনমনীয় ঋণ একদিকে কঠিন শর্তের অন্যদিকে ঋণদাতার অনেক শর্ত পালন করতে হয়। যেহেতু নমনীয় ঋণ পাওয়া যায়নি তাই অনমনীয় ঋণের উপরই নির্ভর করতে হবে। অর্থ বিভাগকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হবে।

বিসিপিসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ এম খোরশেদুল আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, বিদ্যুেকন্দ্রের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু করতে হলে জরুরিভিত্তিতে বৈদেশিক অর্থায়নের উত্স নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কারণ, প্রকল্প কাজের জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান চূড়ান্তকরণের পূর্বেই প্রকল্পের অর্থায়ন প্রাপ্তির বিষয়টি চূড়ান্ত করা আবশ্যক। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে চীনের এক্সিম ব্যাংক থেকে আগ্রহপত্র পাওয়া গেছে। কেন্দ্রটির মালিকানার অর্ধেক এনডব্লিউপিজিসিএল’র এবং বাকি অর্ধেকের মালিকানা চীনা কোম্পানি সিএমসির। নমনীয় ঋণ পাওয়ার সুযোগ না থাকায় চীনের বৈদেশিক প্রকল্প ঋণ থেকে এর অর্থায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এই ঋণের দায় এনডব্লিউপিজিসিএল এবং সিএমসি সমান হারে বহন করবে।

তিনি বলেন, চীনের বৈদেশিক প্রকল্প ঋণের আওতায় ঋণ গ্রহণ করতে হলে ঋণের সুদ ও অন্যান্য খরচ সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার জন্য রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি আবশ্যক। মোট ঋণের ৫০ শতাংশের জন্য এনডব্লিউপিজিসিএলের পক্ষে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি প্রয়োজন হবে। সিএমসির বাকি ৫০ শতাংশের জন্য তা প্রযোজ্য হবে না। তাই প্রকল্পের ঋণ গ্রহণের কার্যক্রম যথাসময়ে সম্পন্ন করার স্বার্থে অর্থ বিভাগকে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি ইস্যুর নীতিগত সম্মতি প্রদানের অনুরোধ করা যেতে পারে।

এনডব্লিউপিজিসিএল’র এক কর্মকর্তা জানান, ২০১৯ সালের এপ্রিলে কেন্দ্রটির ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট এবং অক্টোবরে দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী কাজ এগিয়ে চলছে। আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে নির্মাণাধীন কেন্দ্রটিতে উত্পাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম আট সেন্ট বা সাড়ে ছয় টাকার মত হতে পারে।

দয়া করে সংবাদটি শেয়ার করুন

© ২০১8 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জন সংবাদ | কারিগরি সহযোগিতায় ক্লাইম্যাক্স আইটি নেট |
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি