সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন

তিস্তার তীব্র ভাঙনে নদী গর্ভে ৪ গ্রাম

তিস্তার তীব্র ভাঙনে নদী গর্ভে ৪ গ্রাম

রংপুরের পীরগাছায় গত তিন দিন ধরে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি ও বুধবার রাত থেকে হঠাৎ পানি কমে যাওয়ায় তীব্র নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। তিস্তা নদীর ভাঙনে ৪টি গ্রাম নদী গর্ভে বিলীনসহ প্রায় পাঁচটি গ্রাম, দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ এবং একটি ক্লিনিক হুমকির মুখে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফসলী জমিসহ বসতভিটা ভাঙনের কবলে পড়েছে। ফলে বারবার নদী ভাঙনে নিঃস্ব পরিবারগুলো এখন আশ্রয় হারিয়ে অন্যের ভিটায় মানবেতর জীবন-যাপন করছে। স্থানীয়ভাবে কাজকর্ম না থাকায় দুই বেলা খাবার জোটাতেও পারছে না তারা। উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর পাড়ে অবস্থিত গাবুড়ার চর, শিবদের চর, কিশামত ছাওলা, চর শিবদেবসহ ৬টি গ্রাম গত দুই দিনে নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে।

বাড়িঘর ও ফসলি জমিসহ বসতভিটা হারিয়ে প্রায় দুই হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ে। বর্তমানে নদী গর্ভে বিলীন হওয়া ওইসব পরিবারের লোকজন খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সেই সাথে গ্রামগুলোতে অবস্থিত একটি মাদ্রাসা, একটি ক্লিনিক, তিনটি হাটবাজার ও পাচঁটি মসজিদসহ প্রায় তিন হাজার পরিবারের মাঝে নদী ভাঙনের আশঙ্কায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে এ ভাঙনের শিকার হতে হচ্ছে প্রতি বছর নদী পাড়ের লোকজনদের।

তিস্তা নদীর ভাঙনের শিকার আহম্মদ আলী জানান, প্রতি বছর নদী ভাঙনের ফলে পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়ন মানচিত্র থেকে ছোট হয়ে আসছে। এ অঞ্চলে গত ৫ বছরে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর ফসলি জমিসহ প্রায় ৩ হাজার পরিবারের বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

একই গ্রামের জাহিদুল, আব্দুর সবুর, জাবেদ আলী, আব্দুল বাক্কী, আব্দুর রহমান, দুদু মিয়া, আব্দুর রউফ, নুর আমিন ও আফজাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে প্রতি বছর এ এলাকাটি তিস্তা নদীর ভাঙনের শিকার হয়। সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে তিস্তা নদীর ভাঙনের হাত থেকে রক্ষার দাবি জানান তারা।

দয়া করে সংবাদটি শেয়ার করুন

© ২০১8-২০১৯ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জন সংবাদ | সহযোগিতায় ক্লাইম্যাক্স আইটি নেট |
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি