রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০২:২৪ অপরাহ্ন

রায়গঞ্জে স্বপ্ন পূরণে বিভোর একটি দরিদ্র পরিবার

রায়গঞ্জে স্বপ্ন পূরণে বিভোর একটি দরিদ্র পরিবার

এম এ মালেক, সিরাজগঞ্জ: অভাব দারিদ্র্যতা দমাতে পারেনি মোছাঃ আমিনা খাতুন (১৭) ও তার ছোট ভাই মেহেদী হাসানকে (১৫)। শত প্রতিকূলতার মাঝে একটি কুড়ে ঘরের মাঝ থেকে এসএসসি পরিক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস ও জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তবে ভাল ফলাফল অর্জন করলেও হাঁসি নেই সেই পরিবারে।

ওরা কেউ হতে চায় শিক্ষক, কারও আবার ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা, কারও প্রত্যাশা বড় আলেম হওয়ার। প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান ওরা।
বাপের ভিটে মাটি বলতে কিছু নেই। অন্যের জায়গায় বসবাস তাদের। তার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছা ওদের।

মেধাবী অনুসন্ধানে এমন একটি পরিবারের সন্ধান মেলে রায়গঞ্জ উপজেলার ব্রম্মগাছা ইউনিয়নের কয়ড়া দড়িপাড়া মহল্লায়। শুক্রবার (১৮ মে ২০১৮) সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, দিনমজুর বেলাল হোসেন (৫৫) ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধি মাতৃ মমতা বেগমের (৪৩) মেয়ে মোছাঃ আমিনা খাতুন গোল্ডেন এ প্লাস ও ছেলে মেহেদী হাসান এ বছর রায়গঞ্জ উপজেলাধীন ডিকে উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

তাঁদের শিশুকাল থেকেই লেখাপাড়ার প্রতি ছিল প্রচণ্ড আগ্রহ। কিন্তু তার জন্ম হয় দরিদ্র পরিবারে। তাঁদের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে নেয়ার পাশাপাশি তাঁর বৃদ্ধা দাদীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পড়ে দিনমজুর পিতা বেল্লাল হোসেনের ঘাড়ে। মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা এবং নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে এবারের এস.এস.সি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পায় মেহেদী হাসান।

ভবিষ্যতে সে ডাক্তার হয়ে এদেশের দরিদ্র অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায়। কিন্তু দারিদ্র্য তার সাফল্যের পথে বড় বাধা। ভাবনা একটাই, কে নেবে দায়িত্ব দরিদ্র দিন মজুরের ছেলে মেহেদী হাসানের।

আর্থিক সংকটে মেহেদী হাসানের লেখা-পড়া প্রায় অনিশ্চিত। একই প্রতিষ্ঠান থেকে মেহেদী হাসানের বড় বোন মোছাঃ আমিনা খাতুন ২০১৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগ হতে জিপিএ-৫ (গোল্ডেন) পেয়ে। সে এ বছর বেগম নূরুন নাহার তর্কবাগিশ অর্নাস কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। তার স্বপ্ন পড়াশোনা করে শিক্ষিকা হওয়া।

যে স্বপ্ন পূরণের আশায় সমাজের বিত্তবানরাই বিভোর। সেখানে কি দিন মজুর বেল্লাল হোসেন পারবে স্বপ্নের বাস্তবে রুপ দিতে? না কি স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে?

দিনমজুরের আয়ে তাঁর বৃদ্ধা মা ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধি স্ত্রীসহ তিন সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালানো নিঃসন্দেহে অসম্ভব। তাহলে কি এসএসসি’তে গোল্ডেন ও এ প্লাস পাওয়া মেধাবী আমিনা ও মেহেদীর উচ্চ শিক্ষা বন্ধ হয়ে যাবে?

সেই চিন্তায় অসহায় পরিবারটি এখন দু’চোখে অন্ধকার দেখছে। তাই সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে সবার মুখে মুখে হাঁসি থাকলেও মা মমতা খাতুনের মুখে নেই কোনো সুখের হাসি,কারণ তার শঙ্কা অর্থাভাবে ছেলে মেয়ের উচ্চ শিক্ষার দরজা হয়তো এবার চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।

কারণ নুন আনতে যাদের পানতা ফুরায়,তাদের পক্ষে কি আবার উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য এতো টাকা জোগাড় করার সাধ্য হবে? কে নেবে এ অসহায় ছেলে মেয়ের উচ্চ শিক্ষার দায়-দায়িত্ব সেই চিন্তা এখন তাদের মাথায় চেপে বসেছে।

অন্যের বাড়ীতে ঝিয়ের কাজ ও বিভিন্ন জায়গায় নিরলস ভাবে খেটে পরিবারের মুখে দু’মুঠো ভাত জোগাতে যার ক্ষমতা নেই সে কি মেধাবী ছেলে মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারবে? এমনটিই বললেন মেধাবী আমিনা খাতুন ও মেহেদী হাসানের মা মমতা খাতুন।

তিনি জানান,দিনের পর দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে অনেক কষ্টে ছেলে মেয়েকে লেখাপড়া করিয়েছে যার ফলে তারা আজ জিপিএ গোল্ডন-৫ পেয়েছে। কিন্তু অক্লান্ত পরিশ্রম করেওপড়াশোনার এতো খরচ বহন করা তাদের পক্ষে এখন অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে।

এ-প্লাস পেয়ে পাশ করলে সবাই খুশি হয়,মিষ্টি খাওয়ায়। কিন্তু আমার মনে কোন খুশি নেই। কারণ এখন অর্থাভাবে ছেলেকে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি করাতে পারবো কিনা তাই নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

যদিও নিধি কল্যান ট্রাস্ট থেকে কিছু আর্থিক সহযোগিতা করেছে। এবং তাঁরা ভর্তির ব্যাপারেও কিছু সহযোগিতার আস্বাসও দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে নিধি কল্যান ট্রাস্টের সভাপতি মো. লুৎফর রহমান বলেন, মোছাঃ আমিনা খাতুন ও মেহেদী হাসান অনেক বড় কিছু করতে পারবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আর তাই এ জলন্ত প্রধীপ শিখা’কে অর্থের অভাবে অন্ধকারের দিকে ধাপিত হতে দেয়া যাবে না।

সমাজের বিত্তবানরা ছাড়াও সামাজিক রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গদের এই দিন মজুরের পরিবারের পাশ্বে দাঁড়ানো উচিৎ।কয়ড়া দড়িপাড়া গ্রামের বাসিন্দা অর্নাস পড়ুয়া প্রতিবেশী রাসেল রানা জানায়,অনেক সময় দেখা গেছে এসএসসি তে জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান না খেয়েই বিদ্যালয়ে ছুটে গেছে। তার বাবাকে দেখা গেছে দিনমুজুরী সহ ছোট খাটো যেকোনো কাজ করতে।

কিন্তু অর্থাভাবে মেহেদী হাসান ও তার বড় বোন সহ ছোট ভাই রাদিল হোসেনের(৮) স্থানীয় মাদ্রাসায় পড়ালেখা বন্ধ যেন না হয়। সেই জন্য সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

দয়া করে সংবাদটি শেয়ার করুন

© ২০১8 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জন সংবাদ | কারিগরি সহযোগিতায় ক্লাইম্যাক্স আইটি নেট |
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি